অমুসলিমদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত প্রদানের ১০টি উপায়

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল ।।

প্রথমে আমরা ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করার গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করার পর অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়ার পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার গুরুত্ব ও মর্যাদা

মহান আল্লাহ বলেন:

ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

“হিকমাহ (জ্ঞান-প্রজ্ঞা) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তোমার রবের পথে আহ্বান করো। আর সর্বোত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক করো। তোমার রব সবচে বেশি জানেন কে তার পথ থেকে বিচ্যুত এবং তিনিই ভাল জানেন কে হিদায়াতপ্রাপ্ত।” (সূরা নাহলঃ ১২৫)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ

“তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন লোককেও হেদায়েত দেন, তবে তা তোমার জন্য একটি লাল উট পাওয়া থেকেও উত্তম।” (বুখারী ১২/৩৭)

তিনি আরে বলেন:

مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا

“যে ব্যক্তি হিদায়াতের পথে আহ্বান করে, সে ঐ পরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হয় যে ব্যক্তি তদনুযায়ী আমল করে। কিন্তু এতে আহ্বানকারীর সওয়াব কমানো হয় না।”

অমুসলিমকে দাওয়াত দেওয়ার ১০টি উপায়

১. যার নিকট ইসলামের দাওয়াত দিতে চান, নিজেকে তার সামনে আদর্শ মুসলিম হিসেবে ফুটিয়ে তোলা। একজন দা’ঈ সকল অবস্থায় তার আচার-ব্যবহার কথা-বার্তা, ইবাদত-বন্দেগি ইত্যাদি বিষয়ে আদর্শবান হবেন। কারণ, আদর্শবান ব্যক্তিত্ব ও সুন্দর ব্যবহার মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে খুব বেশি অবদান রাখে।

২. দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞান, প্রজ্ঞাপূর্ণ সুন্দর ও নম্র ভাষা ব্যবহার করা এবং বিতর্কের প্রয়োজন হলে দলীল-প্রমাণ সহযোগে যৌক্তিক পদ্ধতিতে বিতর্ক করা।

৩. যাকে দাওয়াত দিবেন, তার চিন্তা-ভাবনা, সংশয়, মতবাদ, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি সম্পর্কে যথাসম্ভব জানার চেষ্টা করা এবং সে আলোকে তার সাথে কথা বলা।

৪. সবার আগে তার হৃদয়ে তাওহীদ-একত্ববাদ ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের বীজ বপন করা। তাকে বোঝানো যে, মহান আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা এবং জীবন ও মৃত্যু দাতা। ভালো কাজ করলে তিনি পরকালে আমাদেরকে পুরস্কৃত করবেন এবং খারাপ কাজের প্রতিদানে শাস্তি প্রদান করবেন।

এছাড়াও ইসলামের অন্যান্য আকীদা ও বিশ্বাসের মৌলিক বিষয়গুলো তার হৃদয়পটে প্রোথিত করা।

৫. ধৈর্য ধারণ করা। সময়, শ্রম, তার অনাগ্রহ, অভদ্র আচরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া। তাড়াহুড়া ফল লাভের আশা করা ঠিক নয়। আপনার আজকের দাওয়াত হয়ত বহু দিন পর তার হৃদয়কে আলোড়িত করবে। তাই দাওয়াত অব্যাহত রাখতে হবে। কোনভাবেই হতাশা অনুভব করা যাবে না। বরং দীর্ঘ মেয়াদী চিন্তা সামনে রেখে সবরের পরিচয় দেওয়া জরুরি।

৬. তাকে কুরআন পড়ার জন্য উৎসাহিত করা। প্রয়োজনে তাকে কুরআনের তরজমা ও তাফসীর উপহার দেওয়া।

৭. তার সামনে ইসলামের সৌন্দর্যময় দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা। অন্যের ধর্ম বা মতবাদের বদনামের চেয়ে তার কাছে ইসলামের সৌন্দর্যময় দিকগুলো তুলে ধরা অধিক প্রলপ্রসূ।

৮. দাওয়াতের স্বার্থে যাকে দাওয়াত দিতে চান, তার সেবা ও সমস্যা সমাধানে নিজের সময়, শ্রম, মেধা ও যথাসম্ভব অর্থ খরচ করা।

৯. তার জন্য ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের উপায়-উপকরণগুলো সহজলভ্য করা। যেমন, কিছু ভালো বই পড়তে দেয়া বা ভালো ওয়েব সাইট, ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদিগুলো সরবরাহ করা।

১০. তার হিদায়াতের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দুআ করা।

মনে রাখতে হবে, আল্লাহই প্রকৃত হিদায়াতের মালিক। তিনি যাকে ইচ্ছা আলোকিত পথের সন্ধান দেন। আমাদের কাজ কেবল দীনের দিকে আহ্বান জানানো এবং এ পথে যথাযথভাবে পরিশ্রম করা এবং ফলাফল একমাত্র আল্লাহর উপর সমর্পণ করা।

ছবি : গ্রামীণ জনপদে দাওয়াতের এক সফরে বাংলাদেশের দুই মানবদরদী আলেম মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী (রাহিমাহুল্লাহ) এবং মাওলানা মুহাম্মদ সালমান (হাফিজাহুল্লাহ) সহ কয়েকজন দা’ঈ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।