অমুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী জাগরণ ও দাওয়াত

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদভী ।।

ঐ সকল দেশে ইসলামী জাগরণ ও দাওয়াত সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই, যেখানে মুসলমান সংখ্যালঘু। তাদের চারপাশে ভুল বুঝাবুঝি, ভুল ব্যাখ্যা, মিথ্যা দোষারোপ, অহেতুক, অবান্তর ও ভিত্তিহীন কল্পনা বিস্তার লাভ করেছে। যেখানে জাতীয় গণতান্ত্রিক সরকারসমূহ ক্ষমতায় আসীন।

ঐসব অঞ্চলেও দীর্ঘকাল থেকে ইসলামী জাগরণ ও দাওয়াতের প্রচেষ্টা বিদ্যমান। সেসব আন্দোলন ও জাগরণ মুসলিম বিশ্বে সৃষ্ট ইসলামী জাগরণের ঢেউ থেকে কম শক্তিশালী নয়!

অমুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত সকল মুসলমান, বিশেষত ইসলামী দাওয়াত ও আন্দোলনের কর্মীদের উচিত সাধ্যমত ইসলামী আদর্শ, আখলাক-চরিত্র ও আচার-আচরণের পূর্ণাঙ্গ নমুনা পেশ করা। এটা ঐ সকল দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের মনে ইসলামের ভালোবাসা জন্ম নিতে সবচে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

সে নমুনাই স্থানীয় অমুসলিম ভাইবোনদেরকে ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ (Sources) ও শিক্ষাসমূহ অধ্যয়নের দিকে আগ্রহী করে তুলতে পারে। যে শিক্ষা মুসলিম জাতিকে উৎকৃষ্ট জীবন দিয়েছে। চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। স্বাতন্ত্র ও সৌন্দর্য দান করেছে। আকর্ষণীয় আদর্শে তাদের গড়ে তুলেছে।

এ কাজটি অমুসলিমদেরকে কুরআন, সীরাতে নববী ও শরীয়াতের সাথে ভালোবাসা গড়ে তুলতে এবং তার অধ্যয়ন করতে অনুপ্রাণিত করবে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মুসলিম সমাজ দীর্ঘদিন যাবত ইসলামী সীরাত ও জীবনবোধ থেকে নিজেরাই দূরে সরে গেছে। বরং তারা অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আচার-অভ্যাস, রসম-রেওয়াজ ও সামাজিক প্রথা-ঐতিহ্যসমূহকে গ্রহণ করে বসেছে। স্থানীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি দিয়ে প্রভাবিত হয়ে পড়েছে। অথবা বস্তুবাদী পাশ্চাত্য সভ্যতার শিকার হয়ে গেছে।

মনে রাখতে হবে, মসজিদ-মাদরাসায় গিয়ে কোনো অমুসলিম ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে অধ্যয়ন করবে না। তারা তো মুসলমানদেরকে দেখবে হাটেবাজারে, অফিস-আদালতে, সাধারণ সভাসমিতি ও মিটিং-মিছিলে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উপলক্ষে।

এসকল মেলামেশা থেকেই তারা ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জন করবে।

(আবুধাবিতে আয়োজিত এক সেমিনারে ২৯ নভেম্বর ১৯৮৮তে শায়েখের প্রদত্ত ভাষণ থেকে)

অনুবাদ : মাওলানা আব্দুর রায্‌যাক নাদভী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।