আদিপাপ এবং শিশুদের পাপী হয়ে জন্ম নেয়ার বিশ্বাস

মুহসিনুদ্দীন মাহমূদ ।।

কথিত সাধু, আত্মস্বীকৃত খুনি পল কর্তৃক প্রবর্তিত খ্রিস্টধর্ম একটি ধারণা প্রচারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যে, প্রথম মানব-মানবী হযরত আদম ও হাওয়া (আলাইহিমুসসালাম) নিষিদ্ধ ফল খেয়ে গুনাহ করে চিরকালের জন্যে পাপী সাব্যস্ত হয়ে গেছেন এবং তাঁদের বংশধর হিসেবে প্রতিটি মানবশিশু সেই পাপে পাপী ও শাস্তিযোগ্য হয়ে জন্মগ্রহণ করে থাকে।

অথচ প্রকৃত ঘটনা হলো, বাবা আদম ও মা হাওয়া নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার সাথে সাথেই অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং মহান আল্লাহ্‌ তাঁদের দুজনকে তখনই মাফ করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন ইরশাদ করছে,

“তারপর আদম তার রবের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন। অতঃপর আল্লাহ্‌ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনিই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” (সূরা বাকারা : আয়াত ৩৭)

এরপরও তাঁদেরকে পাপী সাব্যস্ত করা সুস্পষ্ট কুফরি।

অন্যদিকে, পিতামাতার অপরাধের জন্যে সন্তানকে অপরাধী গণ্য করা অবিচার ছাড়া কিছুই না। আল্লাহ্‌ বলেন,

“প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী এবং কেউ অন্য কারো ভার গ্রহণ করবে না।” (সূরা আন’আম : আয়াত ১৬৪)

কিন্তু এখানে বলা হচ্ছে, মানবজাতির প্রথম বাবামায়ের কারণে প্রতিটি মানুষ অপরাধী!

কোনো শিশু জন্ম নেয়ার পর থেকে একটা বয়স পর্যন্ত যেখানে অপরাধ করার পরও শাস্তিমুক্ত বলে মানব-আদালতে গণ্য হয়, সেখানে কোনো অপরাধ না করেও আররাহ্‌মান, আররাহীম আল্লাহ্‌পাকের আদালতে সদ্যোজাত শিশু কিভাবে পাপী এবং শাস্তিযোগ্য বলে নির্ধারিত হবে?

এভাবেই, একটি জলজ্যান্ত ভ্রান্ত ধারণাকে ভিত্তি করে পল খ্রিস্টধর্মকে গড়ে তুলেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।