আমাদের অবজ্ঞা ও অবহেলার পরিণতি

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ।।

বর্তমান যুগ নতুন এক যুগ। প্রত্যেক সময় যুগ কিছু দাবি নিয়ে আসে। আর যুগের প্রেক্ষিতে যদি কাজ না হয়, তবে লাভ হবে না।

আমরা তো কাজ করছি দুইশ’ বৎসর আগের পরিপ্রেক্ষিতে অমুসলিমদের মধ্যে, এই পরিপ্রেক্ষিতে কাজ হবে না। কারণ বর্তমানে ‘এইটা হক’, ‘এইটা না-হক’ – শুধু এতটুকু তুলে ধরার মাধ্যমে মানুষ কোনো হককে গ্রহণ করে না বা না-হককে ছাড়ে না।

মানুষ তো হককে গ্রহণ করার সাথে আরো কিছু বৈষয়িক বিষয় সামনে দেখতে চায়। বা না-হককে পরিত্যাগের ক্ষেত্রেও কিছু বৈষয়িক বিষয় তার সামনে এসে যায়।

তাই সবচাইতে খেয়াল করার বিষয় হলো, আমি গারোদের সাথে আলাপ করেছি, কথা হয়েছে, আমার যেটা বুঝে এসেছে, বাঙ্গালী মুসলমানের মতো চাকমা-গারোরা আর কাউকে পৃথিবীতে এত ঘৃণা করে না। আর এই ঘৃণা করার কারণ হলাম আমরা নিজেরা। আমাকে অনেক গারো বলেছে যে, এই এলাকার জায়গা-জমি আমাদের ছিল। কোথায় ময়মনসিংহ থেকে, চাঁদপুর থেকে, কোথায় অমুক স্থান থেকে বাঙ্গালী মুসলমানেরা এসেছে। সরলভাবে আমরা তাদের সাথে ব্যবহার করেছি, জায়গা করেছি। কিছুদিন পরে লিখিতভাবে, শক্তি দিয়ে আমাদেরকে আমাদের ভূমি থেকে উৎখাত করেছে। আমরা পেছাতে পেছাতে পাহাড়ের গুহায় ঢুকে গেছি। আর এই খ্রিস্টানরা আমাদেরকে সাহায্য করেছে, শিক্ষিত করেছে, পড়াশুনা করিয়েছে, মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। সুতরাং কেন আমরা মুসলমান হবো? যারা আমাদেরকে মর্যাদা দিয়েছে মানুষ হিসেবে, তাদের কথা ছেড়ে দিব?

শতকরা নব্বই জনের উপরে এখন গারোরা খ্রিস্টান হয়ে গেছে। অথচ এটা মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে সহজ ছিল। কিন্তু কোনোদিন আলেমরা নজর করলো না পাশেই যে গারোরা থাকে, তাদের দিকে। শুধু যদি আলেমরা বা মুসলমানরা স্বাভাবিকভাবে রাজি হয়ে যেত যে, কোনো গারো মেয়ে মুসলমান হলে বা গারো পরিবার মুসলমান হলে তার মেয়েকে বিয়ে করবে – এটার যদি সমাধান করে ফেলতো, তাহলেও শতকরা আশিজন গারো এখন মুসলমান থাকতো।

তাই গারোদের সংস্কৃতি সম্পর্কে, তাদের ভাষা সম্পর্কে আজকে আমাদের জানতে হবে, ওদের ভাষা আলাদা, ওদের সংস্কৃতি আলাদা।

আমাদের দেশে যেসব উপজাতি আছে, তাদের সবারই ভাষা-সংস্কৃতি দাওয়াতের উদ্দেশে শিখতে হবে। তাই এখন সবচেয়ে বড় ভালোকাজ হবে আমার ধারণায়, যদি ওদেরকে আলেম বানিয়ে নিয়ে, গারোদেরকে, চাকমাদেরকে আলেম বানিয়ে, তাদের মধ্যে ছাড়া যায়, তাহলে তারা তাদের ভাষায়, তারা তাদের সংস্কৃতিকে নিয়ে কথাবার্তা বলতে পারবে।

চাকমা আর গারোরা আমাদেরকে অত্যাচারী বিদেশী মনে করে। কার্যকরী দাওয়াত দিতে হলে এই অবস্থা কাটাতে হবে। তা না করে মৌলভী সাহেবরা শুধু কথা বললে একটা ওয়াজ হয়ে যায়, দাওয়াত হয় না।

অনুলিখন : মুহসিনুদ্দীন মাহমূদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।