৯৫ বছর ইসলামের দাওয়াতের প্রতীক্ষায়

মুফতী জহিরুল ইসলাম সিরাজী ।।

৯৫ বছরের সনাতনি (হিন্দু) মুরুব্বি। চোখের জ্যোতি পুরো হান্ড্রেডে একশো। আঁখ চিবিয়ে খাওয়ার মতো মজবুত দাঁত।

লাঠি ছাড়া কোমর সোজা করে হাঁটছেন। তবে হাঁটছেন ধীর গতিতে। কিছুটা দুর্বল মনে হচ্ছে।

ময়মনসিংহের ভালুকা। মাদরাসাতুল হুদার পাশের গ্রামে। আমরা অন্যদের দাওয়াত দিচ্ছি। তিনি দূর থেকে শুনতে চেষ্টা করছেন আমরা কী বলছি? আর এক পা দু’পা করে কাছে আসতে চেষ্টা করছেন।

এতোগুলো হুজুর হিন্দুদের সাথে হেসে হেসে কথা বলতে তাঁর ৯৫ বছরের যিন্দেগিতে কখনো দেখেননি। বরং ধারণা ছিলো, হুজুররা হিন্দুদেরকে দেখলেই মারবে, কাটবে, বাড়িতে আগুন জ্বালাবে। কিন্তু এখানে তো ভিন্ন কিছু মনে হচ্ছে!

মাওলানা মোস্তফা মাদানী ভাই তাঁকে অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করে আমাদেরকে বললেন। মুরুব্বি মানুষ। কট্টর হিন্দু মনে হচ্ছে। ইসলামের দাওয়াত দিলে রেগে যেতে পারেন। সারা জীবনের পালিত ধর্ম কি এতো সহজেই ছেড়ে দিবেন?

সাথীদের আরো নানা মন্তব্য। পরিশেষে পরামর্শ করে আমরা অগ্রসর হলাম সেই মুরুব্বির দিকে।

দা’ঈ কখনো নিরাশ হতে পারে না। হেদায়েতের মালিক আল্লাহ। বান্দার কাজ চেষ্টা করা।

মুরুব্বির সাথে কুশল বিনিময় করে ইসলামের দাওয়াত পেশ করতেই তিনি বলে উঠলেন, কতোদিন ধরে আমি এই দাওয়াতের অপেক্ষা করছি! শেষমেশ মনে হচ্ছিলো, ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়াই আমার দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে! আমি তো নরকের যাত্রী। এই কথা বলে তিনি কেঁদে ফেলেন।

তাঁর কথা শুনে আমরা সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।

তিনি আমাদের সাথে কালেমা পড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে আনন্দের সাথে বললেন, “এহন আমি মইরা গেলে আর দুক্য নাই। মালিক আমার আশা পুরাইছে। নরকেততে বাঁচছি!”

পরিশেষে বলবো, আমাদের উদাসীনতা যেনো অসংখ্য মানুষের জাহান্নামের জন্য দায়ী না হয়!!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।