আমার ইসলাম বরণের অভিযাত্রা : ২

মাওলানা আবু সাঈদ আবদুল্লাহ ।।

আমি ছিলাম শ্রী সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস, হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী। বাবা শ্রী প্রসন্ন চন্দ্র বিশ্বাস। মা শ্রীমতী সবিতা রাণী। ছোট ভাই শ্রী কৃষ্ণ বিশ্বাস। বোন শ্রীমতি কল্পনা রাণী। দিনাজপুর আমাদের বাড়ি।

আল্লাহ্‌র দরবারে শোকর আদায়ের ভাষা নেই। শুধু মুখে আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলতে পারি। আল্লাহ্‌ অন্তর্যামী, আমি কুফর ও শির্ক থেকে মুক্তি পেয়েছি। চিনতে পেরেছি আমার সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, ইবাদাতের উপযুক্ত একমাত্র সত্তা মহান আল্লাহ্‌ তা’আলাকে। পরিচয় পেয়েছি আমার রাহ্‌বার, জান্নাতের পথপ্রদর্শক, মুক্তির দূত শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের।

যে সত্তা মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাকে এত বড় নেয়ামত দান করেছেন কামনা বাসনা ছাড়াই, তিনি অবশ্যই আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে অপেক্ষমাণ নন, তবে আমি কৃতজ্ঞ বান্দাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার আশায় অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শুধুই ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌’ জপতে পারি।

আমার ইসলাম বরণের পেছনে আমার বাবার অবদানই সবচে বেশি; যদিও তিনি নিজে মুসলমান হননি। ছোটবেলায় আমি অন্যান্য বাচ্চাদের মতো গল্প শোনার আবদার করতাম। আব্বু আমাকে রাজা-বাদশাহর গল্প শোনাতেন, ভূত-প্রেত ও রাক্ষসের কিচ্ছা বলতেন। মিথ্যা ও বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনীতে আমার মন ভরতো না। তখন আব্বু আমাকে নবীদের সত্য কাহিনী, সাহাবাদের কুরবানি ও আল্লাহওয়ালাদের ঘটনাবলি শোনাতেন। যেগুলো আব্বুর দুজন ব্যবসায়ী আলেম বন্ধু তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় বলতেন। ধীরে ধীরে সেই গল্প-কাহিনীগুলো আমার হৃদয়ের কড়া নাড়তে লাগলো।

আমার বয়স বাড়ছে, অন্তর খুলছে। চিন্তাশক্তি গভীরে যাচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের মুসলিম ছেলে-মেয়েদের সাথে ওঠা-বসা হচ্ছে। ইসলামের প্রতি দিল ঝুঁকছে। অপরদিকে আমার আব্বু নিজ হাতে মূর্তি বানিয়ে নিজেই সেটার পূজা করছেন।

নানার মৃত্যুতে তার বড় ছেলে অর্থাৎ আমার বড় মামা নিজ হাতে তার বাবার নারকীয় শাস্তির উদ্বোধন করলেন আগুন দিয়ে ও লাঠিপেটা করে। নানার মৃত্যুর পর হিন্দুধর্মের বিভিন্ন রীতিনীতি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অন্তরে সেই ধর্মের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হতে লাগলো। মনকে ভাবিয়ে তুললো। বিবেকে চিন্তার ঝড় বইতে শুরু করলো। হৃদয়ে প্রশ্নরা বাসা বাঁধলো। সাথে সাথে উত্তরও খুঁজলো। শেষ পর্যন্ত হিন্দুধর্মের প্রতি নিরাশ হয়ে আমার দিল ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হলো।

এবার সাহস করে বিভিন্ন মাহফিলে যেতে থাকি। একদিন ৩০ মাইল দূরে এক মাহফিলে শরিক হই। গ্রামের এক মাহফিলে ২০ টাকা দান করি। অথচ আমি কোনদিন কোনো মন্দিরে কিছু দান করিনি। মাহফিলের পাশে একটি ভ্যানে বসে ওয়াজ শুনি। দু’আর সময় খুব কান্নাকাটি করি। আমার বিশ টাকার দান মাহফিলের মাইকে নামসহ ঘোষণা করা হয়। পরদিন লোকমুখে আব্বু এ কথা শোনেন। ইতঃপূর্বে বিভিন্ন আচরণে আমার প্রতি তার সন্দেহ ছিল। এবার তা মজবুত হলো।

পরদিন আব্বু আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে পবিত্র করার জন্য এক ব্রাহ্মণের কাছে নিয়ে গেলেন। ব্রাহ্মণ আমাদেরকে পবিত্র করার জন্য যা করলেন তা ছিল আমার জন্য হাসির খোরাক। পরিশেষে শরীরের জামা খুলে কিছু সুতা বেঁধে দিলেন। আর বললেন, এভাবে এক সপ্তাহ থাকতে হবে। আব্বু আমাদেরকে ব্রাহ্মণের কাছে রেখেই চলে গেছেন। সেখান থেকে বের হয়ে আমি আমার শরীরের সুতাগুলি ছিঁড়ে ফেলি। একটি পুকুরে গোসল করে জামা পরে নিই। আমার ছোট ভাই বাবার ভয়ে ব্রাহ্মণের দেওয়া সকল নিয়ম মেনে চললো।

এলাকায় এসে মুসলমানদেরকে বলি, আমি মুসলমান হবো। এ কথা শুনে অনেকে হেসে উড়িয়ে দেয়। অনেকে ছেলেখেলা মনে করে দুষ্টুমি করলো। এমনটি করারই কথা, কারণ তখন আমি ছিলাম বিড়ি-সিগারেট, গাজা-ফেনসিডিল খাদকদের একজন। সিনেমা দেখার নেশা ছিল চরমে। আর পেশায় ছিলাম নাপিত।

আমাদের এলাকার ববিন ভাই বললো, তুমি তো আবু তালিব, তুমি কিভাবে মুসলমান হবে? আরেকজন সবুজ ভাই উৎসাহ দিয়ে বললেন, তুমি মুসলমান হলে তোমাকে কাজ ঠিক করে দিব, আর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আমার বাড়িতেই হবে। আরেকজন ছিলেন জাহিদ ভাই। তিনি বললেন, যদি মুসলমান হতে চাও, তাহলে আমার খালু আফতাব উদ্দীন মোল্লার কাছে নিয়ে যাব মুসলমান বানানোর জন্য।

আলিয়া মাদরাসায় অধ্যয়নরত সুজন ভাইকে বললাম, আমি মুসলমান হবো। তিনি বললেন, মুসলমান হয়ে কী করবে? বললাম, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো আলেম হবো। তিনি বললেন, কওমি মাদরাসায় পড়লে বড় আলেম হতে পারবে। এভাবে বিভিন্নজন উৎসাহ ও নানা পরামর্শ দিলেন। কিন্তু কেউ মুসলমান বানালেন না। এমনকি পাশের এলাকার দু’জন আলেমের কাছে গিয়ে পরামর্শের ঝুলি নিয়ে ফিরলাম।

এক পর্যায়ে আব্বু জানতে পেরে চাচাতো বোনের সাথে বিয়ে ঠিক করতে থাকেন, যাতে স্ত্রীর ভালোবাসায় ধর্ম ছাড়তে না পারি। তখন আমি নতুন চিন্তা করলাম, বিয়ে যদি করতেই হয়, তবে স্কুলের সুন্দরী মেয়ে বর্ণমালাকে বিয়ে করে দু’জন একসাথে মুসলমান হবো। তাকে আগে থেকেই পছন্দ করতাম। কিন্তু সে আমাকে পাত্তা দিত না। অপরদিকে শিবলী নামের এক মুসলিম মেয়ে (বয়সে আমার ১০ বছরের বড়) আমাকে পছন্দ করতো। সে বলতো, তুমি মুসলমান হলে আমরা বিয়ে করে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করবো, এলাকাতে আর আসবো না।

এসব কথাবার্তা চলার মধ্যেই একদিন মশিউর ভাইয়ের ছোট ভাই মেহরাব ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমার ইসলাম গ্রহণের আগ্রহের কথা শুনে বললেন, আমার ভাই ঢাকার এক মাদরাসায় পড়েন। তিনি এলে তোমাকে তার সাথে ঢাকায় পাঠাবো। তখন একটা ব্যবস্থা হবে।

তারপর একদিন পাশের এলাকার বাবুল ভাইয়ের সাথে মশিউর ভাইদের বাড়িতে গেলাম – তার সাথে দেখা করার জন্য। রাস্তায় এক হিন্দু মহিলা তা দেখে আব্বুকে জানিয়ে দেয়। সেখান থেকে ফেরার পর থেকে আব্বু সবসময় আমাকে নজরে রাখতে শুরু করেন।

কিন্তু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, মশিউর ভাইয়ের সাথে ঢাকা যাবো, পরে যা হওয়ার হবে। আমার কচিমন চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। আবেগময় সিদ্ধান্তে কি আমি অটল থাকতে পারবো? পারবো স্নেহময়ী মাকে ভুলতে? পারবো অভিভাবক ছাড়া চলতে? ভাই-বোন, দাদী ও সব আত্মীয়কে ছেড়ে কি থাকতে পারবো? কোথায় যাব? কার কাছে যাব? কী করে খাব? এসব চিন্তা করি আর মায়ের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি। মা-ও যেন কিছু একটা বুঝতে পারেন।

২০০৭-এর মে মাসের শেষ বুধবার রাতে ভগ্ন হৃদয়ে কাঁপা স্বরে মাকে বললাম, তুমি আমাকে খাইয়ে দাও। এ কথা বলতেই মায়ের চেহারায় আচমকা এক পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। মুখে কিছু না বলে মায়ামাখা হাতে খাওয়াতে শুরু করলেন। মা-ছেলের বিচ্ছেদের শেষ রজনী। যার যার মনের ভাবনা স্ব স্ব স্থানে অবস্থান করছে। কারো মুখে কোনো কথা নেই। মা খাওয়াচ্ছে আর আমি খাচ্ছি। সেই দৃশ্য মনে পড়লে এখনও বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার বাহানা করে মাকে বললাম, নানার বাড়ি যাব। মা বুঝতে পেরে নিষেধ করলেন। তারপর এক সেট কাপড় নিয়ে আয়রন করতে দিব বলে বাড়ি থেকে বের হচ্ছি। মা এবারও নিষেধ করলেন। আমি সেদিকে কর্ণপাত না করে বের হয়ে গেলাম। বহুদূর পর্যন্ত মা একপলক সন্দেহের দৃষ্টিতে এভাবে তাকিয়ে আছেন যে, মনে হয় আমার ছেলে আর ফিরবে না। নিশ্চিত না হওয়ায় কাউকে বলতেও পারছেন না।

আমাদের বাড়ির আঙ্গিনা বরাবর বহুদূর পর্যন্ত সোজা পথ শেষে একটা মোড়। সেই মোড়টি ঘোরার আগে বুক ফেটে কান্না আসছে। অশ্রুসিক্ত নয়ন মুছতে মুছতে শেষবারের মতো বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি অশ্রুভেজা চোখে মা এখনও তাকিয়ে আছেন।

মোড় ঘুরতেই দেখি ববিন ভাই। বললাম, মুসলমান হওয়ার জন্য চলে যাচ্ছি। তিনি শেষবারের মতো বললেন, তুমি তো আবু তালিব। তুমি মিথ্যা বলো। বললাম, দু’আ করবেন, এবার প্রমাণ করবো আমি আবু তালিব না।

দুপুরের আগেই আমাদের পাশের এলাকার বাবুল ভাইয়ের বাসায় পৌঁছলাম। তাদের বাসার বিছানায় শুয়ে কী যেন চিন্তা করছি, এমন সময় এক ফকির দরজায় দাঁড়িয়ে সুর করে বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়ার অশুভ পরিণতির কথা গাইছে। তা শুনে মন দোটানা হয়ে গেল। ভাবছি মুসলমান হওয়ার জন্য ঢাকায় যাব, নাকি কাফের অবস্থায় বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাব। কিন্তু আগের সিদ্ধান্তেই অনড় রইলাম। ঢাকায়ই যাব। মুসলমান হবোই।

বাবুল ভাই আমাকে গোসল করিয়ে যোহরের নামায পড়াতে মসজিদে নিয়ে গেলেন। ইতঃপূর্বে নামাযের সময় ছাড়াই বিভিন্ন সময় আযানের আওয়াজ শুনতে পেতাম। কোথা থেকে আওয়াজ আসতো তা জানতাম না। মসজিদে মুসল্লিদের নামায দেখতে ভালো লাগতো। আজ যোহরের নামাযে শরিক হয়ে আরো ভালো লাগলো।

বাবুল ভাইয়ের সাথে রেলস্টেশনে গাড়ির অপেক্ষায় বসে আছি। এলাকার অনেক পরিচিতজনদের সাথে দেখা হচ্ছে। আমাকে দেখে নানাজনের কত প্রশ্ন হচ্ছিলো। বাবুল ভাই পাশ কাটিয়ে উত্তর দিচ্ছিলেন। ট্রেনের টিকিট নেই। বাবুল ভাই কার কাছে যেন ফোন করে টিকিটের ব্যবস্থা করলেন। আমাকে ট্রেনে বসিয়ে বাবুল ভাই চলে গেলেন। সামনের স্টেশন থেকে মশিউর ভাই উঠবেন।

ট্রেনে বসে বাইরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি। ভাবছি আব্বু যদি দেখে ফেলেন। যদি আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেন, তাহলে কী করবো? ট্রেন আমাদের নানাবাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছে। আমার অজান্তে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে, ইচ্ছে হচ্ছে শেষবারের মতো মনখুলে উঁচুস্বরে চিৎকার করে ডাকি, মা—-। কিন্তু না, পারিনি। ততক্ষণে বাড়ি অনেক পেছনে রেখে এসেছি। কিছুক্ষণ পর মশিউর ভাইকে দেখে কিছুটা ভালো লাগলো।

১ জুন ২০০৭ শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছি। সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ি মাদরাসায় আসি। ২ জুন শনিবার সকাল ১০টায় আমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্তে পৌঁছে সেই মাদরাসার উস্তাদ মাওলানা আহমদ ঈসা সাহেবের হাতে। তিনি আমাকে কালেমা পড়িয়ে নাম রাখেন আবু সাঈদ আবদুল্লাহ।

এক সপ্তাহ পর মাকে ফোন করে বলি ঢাকার এক মাদরাসায় আছি। বাবা জানতে পেরে টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগে থানায় মামলা করেন। জন্মদাতা পিতা কর্তৃক আপন সন্তানকে চোর হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি ছিল আমার জন্য বড় কষ্টের কারণ।

বাবা ঢাকায় এসে মগবাজার, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। মাদরাসার হুজুররা তা জানতে পেরে চিল্লায় পাঠিয়ে দিলেন ফেনীর ছাগলনাইয়্যাতে। ফোনের ডাইরি রেখে যেতে বলেছেন। তাই ২০/২৫টি নাম্বার একটি কাগজে লিখে ডাইরি জমা দিয়ে দিই। কাগজে লেখা নাম্বারে বাসায় ফোন করি তা আমীর সাহেব জানতে পেরে কাগজটি জমা নিয়ে নেন। তাতে মন খারাপ হয়ে গেল। চলে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। সবাই আদর করে বুঝালেন। আবার থেকে গেলাম।

তাবলীগে গিয়ে আমার ঈমান অনেক মজবুত হলো। তাবলীগ থেকে ফেরার পর মশিউর ভাই অনেক মাদরাসায় নিয়ে গেলেন ভর্তি করার জন্য। ১৮ বছর হয়নি, কিন্তু ধর্ম পরিবর্তন করেছি – এ কথা শুনে কেউ ভর্তি করতে চান না। মশিউর ভাই এক সাথী থেকে জানতে পারলেন যে, বাসাবো আবুজর গিফারী কমপ্লেক্স থেকে অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করা হয়। তিনি আমাকে সেখানে নিয়ে গেলেন।

মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী (রাহিমাহুল্লাহ), মাওলানা আবদুল হাই নাদভী ও মাওলানা যুবায়ের আহমদ আমাকে আদরের সাথে গ্রহণ করলেন। তাঁরা কয়েকজন পরামর্শ করে আমার জন্য দৈনিক ৫০ টাকা বরাদ্দ করেন। তাঁরা আমার অনেক যত্ন নিতে শুরু করলেন। কাপড় ধুয়ে দিতেন, মাথায় তেল দিয়ে দিতেন। ওমর আলী সাহেব আমাকে দেখলেই বুকে জড়িয়ে ধরতেন। নিজ সন্তানের মতো আদর করতেন। তাদের এ সমস্ত ব্যবহারে আমি বাড়ির কথা ভুলে যেতাম।

প্রতি শুক্রবার আমি ওমর আলী সাহেবের মাথায় তেল দিয়ে দিতাম। তিনি আমার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নিতেন। সাহাবাদের কাহিনী শোনাতেন। বলতেন, তুমি সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছো। তীরে তোমাকে পৌঁছতেই হবে। বড় আলেম হতে হবে। অনেক কাজ করতে হবে। আরো বলতেন, তোমরা নওমুসলিম নও, বরং আমাদের হারানো ভাই আমাদের কাছে আবার ফিরে এসেছো।

আমি ছিলাম সেলুনের নাপিত। আল্লাহ্‌ আমাকে আলেম হিসেবে কবুল করেছেন। আমার পরিবারের বাকি সদস্যদেরকে কমপক্ষে মুসলমান হিসেবে তো কবুল করবেন! হে আল্লাহ্‌, আপনি আমার পরিবারের সবাইকে পাকা মুসলমান বানিয়ে দীনের জন্য কবুল করুন! আমীন!

অনুলিখন : মুফতি জহিরুল ইসলাম সিরাজী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।