একটা অবোধ শিশু হেঁটে হেঁটে সোজা আগুনে পড়তে যাচ্ছে!

ওয়াসী সুলাইমান নাদভী ।।

একটা অবোধ শিশু আপনার সামনে। সে তার তুলতুলে খালি পা নিয়ে হেঁটে হেঁটে সোজা আগুনে পড়তে যাচ্ছে। তখন আপনি কী করবেন?

আপনি তখনই ছুটে গিয়ে বাচ্চাটাকে একটানে কোলে তুলে নেবেন। আর আগুনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে এনে সীমাহীন তৃপ্তি অনুভব করবেন।

এরকমই আপনার সামনে যদি কোনো মানুষ আগুনে পুড়ে ঝলসে যায়, আপনি তখন ছটফট করবেন। তার জন্য আপনার মনে সহানুভূতি তৈরি হবে।

আপনি কি কখনও চিন্তা করেছেন – কেনো এমন হয়? এটা এজন্য যে, পুরো মানবজাতি একই মা-বাবা আদম-হাওয়ার সন্তান। তাছাড়া প্রত্যেক মানুষের বুকে আছে একটা কোমল হৃদয়। যাতে আছে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা। সে অন্যের দুঃখ-বেদনায় ছটফট করে। এবং তাকে সাহায্য করে আনন্দ অনুভব করে। সুতরাং সে-ই প্রকৃত মানুষ, সকল মানুষের জন্য যার অন্তরে ভালোবাসা রয়েছে। যার প্রতিটি কাজ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। অন্যের দুঃখ-ব্যথায় যে অস্থির হয়ে ওঠে। প্রেমে উথলে ওঠে। মানুষের দুঃখ মোচনের জন্য যে এগিয়ে যায়। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। জগতবাসীর প্রতি ভালোবাসা যার সহজাত। শুধু এভাবেই একজন মানুষ সত্যিকারের মানুষ হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে।

এ পৃথিবীতে মানুষের এই জীবন ক্ষণিকের। মরণের পরে রয়েছে আরো একটা জীবন – যা কখনো শেষ হবে না। আসল মালিকের উপাসনা ও তাঁকে মেনে চলা ছাড়া পরজগতে স্বর্গ বা জান্নাত লাভ হবে না; বরং সর্বদা নরকে জ্বলতে হবে।

আজ আমাদের লাখো-কোটি ভাই না-জেনে না-বুঝে নরক অভিমুখে দৌড়াচ্ছে। এমন পথে অগ্রসর হচ্ছে, যা সোজা নরকে গিয়ে পৌঁছেছে। এমাতবস্থায় যারা স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মানুষকে ভালোবাসে এবং সত্যিকারার্থে মানবতায় বিশ্বাস করে – তাদের এগিয়ে আসা উচিত। মানুষকে নরকের আগুন থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব পালন করা উচিত।

লেখক পরিচিতি : সম্পাদক, মাসিক আরমোগান, ফুলাত, মুজাফফরনগর, ইউপি, ভারত

অনুবাদ : দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।