খ্রিস্টীয় ত্রিত্ববাদ

মুহসিনুদ্দীন মাহমূদ ।।

খ্রিস্টধর্মের আরেকটি প্রচারণা হলো, মানবজাতির উপাস্য বিশ্বপ্রভু তিনটি রূপ ধারণ করেছেন। এক. তিনি ‘ঈশ্বর (God)’ নামে পিতাপ্রভু। দুই. তিনি ‘যিশু (Jesus)’ নামে পুত্রপ্রভু। তিন. তিনি ‘পবিত্র আত্মা (Holy Ghost)’ নামে ধর্মীয় দীক্ষাদাতা প্রভু।

কিন্তু একমাত্র মহান স্রষ্টা, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ তা’আলাকে কেন এভাবে তিনভাগে, তিন রূপে বিভক্ত হতে হবে? কেন তাঁকে জন্মদাতা-জন্মগ্রহীতা-মৃত্যুবরণকারী হতে হবে? মহান আল্লাহ্‌কে এমন করে দেখার ধর্মবিশ্বাস নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম) কখনো প্রচার করেননি। এটা সম্পূর্ণই পলের একটি মিথ্যা প্রচারণামাত্র।

আল্লাহ্‌ তাঁর পবিত্র কালামে ইরশাদ করেছেন,

“তারা অবশ্যই কুফরি করেছে, যারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ তো তিনের মধ্যে তৃতীয়’; অথচ এক ইলাহ্‌ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ্‌ নেই। আর তারা যা বলে তা থেকে বিরত না হলে তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তাদের ওপর অবশ্যই কষ্টদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।” (সূরা মায়েদা : আয়াত ৭৩)

“বল, ‘তিনিই আল্লাহ্‌, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্‌ কারো মুখাপেক্ষী নন; সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি; তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।” (সূরা ইখলাস : আয়াত ১-৪)

বলা বাহুল্য যে, নবী ঈসাকে ‘আল্লাহ্‌র পুত্র আল্লাহ্‌’ বললে একই সঙ্গে আল্লাহ্‌কে জন্মদাতা এবং জন্মগ্রহীতা বলে বিশ্বাস করতে হয়। অথচ চিন্তা করা উচিত, মহান আল্লাহ্‌ তাঁর সৃষ্ট বিভিন্ন জীবের মতো এসব প্রয়োজনের মুখাপেক্ষী হতে পারেন না!

আবার হযরত ঈসা (আ.) বা আল্লাহ্‌র অন্য কোনো নবী মানুষকে আল্লাহ্‌র ইবাদাতের দিকে আহ্বানের দায়িত্ব পালন করতে এসে তার নিজের ইবাদাত করতে বলতে পারেন না এবং কখনো এমন করেননি। আল্লাহ্‌ বলছেন,

“কোনো ব্যক্তির জন্য সঙ্গত নয় যে, আল্লাহ্‌ তাকে কিতাব, হিকমাত ও নবুওয়াত দান করার পর তিনি মানুষকে বলবেন, ‘আল্লাহ্‌র পরিবর্তে তোমরা আমার দাস হয়ে যাও’।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত ৭৯)

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।