খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থের নাম ইঞ্জিল নয়, নিউ টেস্টামেন্ট এবং বাইবেল

মুহসিনুদ্দীন মাহমূদ ।।

আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর রাসূল হযরত ঈসার ওপর (‘আলাইহিস সালাম) ‘ইঞ্জিল’ নামে আসমানি কিতাব নাযিল করেছিলেন। সে বিষয়ে তিনি পবিত্র কুরআনে বর্ণনা প্রদান করেছেন। নবী ঈসা ছিলেন হিব্রু সুরিয়ানি ভাষাভাষী। কাজেই এটা নিশ্চিত যে, মহান আল্লাহ্ তাঁর পবিত্র কালাম ইঞ্জিলও নাযিল করেছিলেন সুরিয়ানি ভাষায়। কিন্তু সুরিয়ানি সেই ইঞ্জিল বর্তমান পৃথিবীর কোনো জাদুঘরেও আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

নবী ঈসার (আ.) পৃথিবীতে অবস্থানকালে ঘোরতর দুশমন ছিলেন ইহুদি ‘শল’। তিনি হযরত ঈসার ঊর্ধারোহণের পর ভোল পাল্টে ‘পল’ নাম নিয়ে তাঁর প্রতি ‘অতি ভক্তি’ জাহির করতে নেমে পড়েন। তিনি তাঁকে ‘যিশু’ নামে ‘প্রভু’ ঘোষণা দেন (না‘ঊযুবিল্লাহ্‌) এবং নিজেকে ‘প্রভু যিশুর কাছ থেকে নবুয়তপ্রাপ্ত’ বলে মিথ্যা দাবি করেন। তিনি এভাবে ‘খ্রিস্টান’ নামে একটি নতুন ধর্মের গোড়াপত্তন করেন।

পল আল্লাহর পবিত্র কিতাব ইঞ্জিল এবং নবী ঈসার ঘনিষ্ঠ সহচর হাওয়ারীগণকে প্রত্যাখ্যান করে ঈসার জীবন ও বাণী সম্পর্কে প্রচলিত কাহিনীগুলো থেকে তার মনমতো নির্বাচন ও বিকৃত করে সেগুলোকে এবং তার নিজের লিখিত ১৩টি পত্র ও পুস্তিকাকে একত্রে খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থরূপে প্রচার করেন। এটি রচিত হয়েছে গ্রীক ভাষায়। এরও মূল কোনো প্রতিলিপি আর পাওয়া যায় না; তবে অনুবাদের পর অনুবাদ করে ইংরেজিতে এটি ‘New Testament’ নামে প্রচলিত রয়েছে।

এটা সন্দেহাতীত যে, নিউ টেস্টামেন্ট মহান স্রষ্টা আল্লাহর নাযিলকৃত আসমানি কিতাব ইঞ্জিল নয়। আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল ঈসার প্রতি ইঞ্জিল নামে যে একটি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল, সে কথাতো দূরে, ওহী আগমনের বিষয়ে পর্যন্ত নিউ টেস্টামেন্টের কোথাও কিছুই বলা হয়নি। আর এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ, পলপ্রবর্তিত নতুন ধর্ম খ্রিস্টধর্মে প্রভু হিসেবে আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে যিশুকে উপাস্যরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর পল বলেছেন, যিশু তাকে নবী নিযুক্ত করে তার কাছে ওহী পাঠিয়েছেন!

নিউ টেস্টামেন্টের অন্তর্ভুক্ত সব রচনাই যে পল এবং বিভিন্ন জনের লেখা, তা কোনো রাখঢাক না করে এর ভিতরেই বলে দেয়া হয়েছে। যেমন – মথি-লিখিত, মার্ক-লিখিত, লুক-লিখিত, ইউহোন্না-লিখিত, পল-লিখিত – এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং নিউ টেস্টামেন্ট যে আল্লাহর কালাম নয়, মানবরচিত গ্রন্থ – খ্রিস্টান সমাজ তা স্বীকার করে নিয়েছে।

কথা এখানেই শেষ নয়। নিউ টেস্টামেন্ট মানবরচিত গ্রন্থ, এই স্বীকৃতির পর খ্রিস্টান ভিন্ন ভিন্ন সমাজ এই গ্রন্থের মাঝে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ঘোষণা দিয়ে সংশোধনের নামে অনেক পরিবর্তনও এনেছে। ফলে বিশ্বে এখন নিউ টেস্টামেন্ট নামেই ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থ ছড়িয়ে আছে।

আর ‘বাইবেল’ কী? ইহুদি ধর্মগ্রন্থ ‘Old Testament’ এবং খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ ‘New Testament’ একত্র করে ‘Bible’ নামে খ্রিস্টান জগতে প্রচলিত আছে। যেমন, প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের ‘প্রোটেস্ট্যান্ট বাইবেল’, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ‘ক্যাথলিক বাইবেল’ ইত্যাদি।

এতকিছু পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও কেবল মুসলিমদেরকে ধোঁকা দিয়ে তাদের কাছে খ্রিস্টবাদের প্রচার করার জন্যে খ্রিস্টান মিশনারিগুলো মুসলিম অঞ্চলগুলোতে বাইবেলকে ‘কিতাবুল মোকাদ্দাস’ এবং নিউ টেস্টামেন্টকে ‘ইঞ্জিল শরীফ’ বলে বর্ণনা করছে। কিন্তু মুসলিম জগতের বাইরে তারা কখনো এই নামদুটি ব্যবহার করে না।

খ্রিস্টবাদ শুরু হয়েছে অসাধু ইহুদি পলের ধোঁকা-প্রতারণা দিয়ে, খ্রিস্টান মিশনারিগুলো আজো তা ইহুদি যোগসাজশে প্রচার করে চলছে ধোঁকা-প্রতারণা সহযোগেই।

একটি মন্তব্য

  1. মুসলিমদেরকে ধোঁকা দিয়ে তাদের কাছে খ্রিস্টবাদের প্রচার করার জন্যে খ্রিস্টান মিশনারিগুলো বাইবেলকে ‘কিতাবুল মোকাদ্দাস’ এবং নিউ টেস্টামেন্টকে ‘ইঞ্জিল শরীফ’ বলে বর্ণনা করছে। কিন্তু মুসলিম জগতের বাইরে তারা কখনো এমন নাম ব্যবহার করে না

    1

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।