দাওয়াত কেন অকার্যকর হয়

মুফতি মুহাম্মাদ রফী উসমানী ।।

এই যামানায় দাওয়াতের কাজ পরিপূর্ণ কার্যকর না হওয়ার দু’টি কারণ। একটি হলো, যামানার ফাসাদ এবং হারামের অধিক ছড়াছড়ির কারণে ব্যাপকহারে মানুষের অন্তর শক্ত এবং গাফেল হয়ে গেছে। হক কবুল করার তওফিক কমে গেছে এবং আল্লাহ্‌র আযাবের শিকার হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অনেক মানুষের অন্তর উপুড় হয়ে যাবে, তখন তাদের অন্তর থেকে ভালো-মন্দের বিচার এবং জায়েয-নাজায়েযের পার্থক্য করার ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় কারণ হলো, ‘আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার’ এবং দাওয়াতে হকের দায়িত্বের ব্যাপারে মানুষের গাফলত ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ তো সাধারণ মানুষ, উলামায়ে কেরামের মাঝেই দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তার অনুভূতি অনেক কমে গেছে। অনেকেই এটা বুঝে নিয়েছেন যে, নিজের আমল ঠিক করে নিলেই যথেষ্ট; স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বেরাদার, বন্ধু-বান্ধব যেকোনো গোনাহেই লিপ্ত থাকুক না কেন, তাদের সংশোধনের দায়িত্বই যেন তাদের নেই। অথচ কুরআনে কারীম ও হাদীসের সুস্পষ্ট ভাষায় প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর তার পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং তার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য সকলের ইসলাহ ও সংশোধনের চেষ্টাকে ফরজ দায়িত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا قُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَ اَہۡلِیۡکُمۡ نَارًا

‘তোমরা তোমাদের নিজেদের এবং পরিবার-পরিজনদের জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।’ – সূরা তাহরীম (৬৬) : ৬

এরপরও যদি কিছু লোক দাওয়াতের কাজে অংশগ্রহণ করেন, তো তাদের অনেকেই হলেন দাওয়াতী কাজের পয়গাম্বরী উসূল ও আদাব সম্পর্কে বে-খবর। কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই যাকে যখন যা ইচ্ছা তা-ই বলে দেন; আর মনে করেন আমরা আমাদের দায়িত্ব আদায় করে ফেলেছি। অথচ তার এই কর্মপদ্ধতি সুন্নতে আম্বিয়ার পরিপন্থী হওয়ার কারণে তা মানুষকে দীন থেকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষত যেখানে অন্যের কোনো পর্যালোচনার প্রশ্ন আসে, সেখানে তো পর্যালোচনার নামে তাকে নিয়ে রীতিমতো ঠাট্টা-বিদ্রূপ পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কাউকে যখন কোনো ভুলের ওপর সতর্ক করতে হয়, তখন যদি তাকে নির্জনে নম্রতার সঙ্গে বোঝানো হয়, তাহলে এটা হবে কল্যাণকামনা। আর যদি তাকে সবার সামনে প্রকাশ্যে লজ্জিত করা হয়, তাহলে এটা হবে লজ্জা দেওয়া।

আজকাল তো অন্যের দোষ-ত্রুটিগুলো পত্র-পত্রিকা(-ফেইসবুক ইত্যাদি)র মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রচার করাকেও সেবা মনে করা হয়। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে নিজের দীন ও দাওয়াত সম্পর্কে সঠিক অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করে, দাওয়াতের উসূল ও আদাব অনুযায়ী দীনের খেদমত করার তওফিক দান করুন। আমীন।

অনুবাদ : মুফতি মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।