বহুরূপী বাব এবং বাহা’উল্লাহ্‌

মুহসিনুদ্দীন মাহমূদ ।।

বাহা’ই ধর্মের সূচনা ধরা হয় ইরানের তেহরানে, ১৮৪৪ সনে, মুসলিমদেরকে ইসলাম থেকে সরিয়ে নেয়ার এক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শুরুতে নেতা ছিলেন মির্জা আলী মুহাম্মাদ, যিনি নিজের জন্যে উপাধি গ্রহণ করেছিলেন ‘বা’ব’। এরপর এই ধর্মের নেতৃত্ব দিয়েছেন বা’বের শিষ্য মির্জা হুসাইন আলী নূরী, যিনি নিজেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘বাহা’উল্লাহ্‌’ নামে। বাহা’উল্লাহ্‌র নামেই এই ধর্মের নাম হয়েছে বাহা’ই ধর্ম।বাহা’ই ধর্মে মির্জা আলী মুহাম্মাদকে ৫টি পরিচয়ে উল্লেখ করা হয়। ১. তিনি শেষ জামানার প্রতিশ্রুত ইমাম মাহ্‌দীর সাথে মুসলিমদের যোগাযোগের ‘বা’ব’, মানে দরোজা। ২. তিনি নিজেই ইমাম মাহ্‌দী। ৩. তিনি আল্লাহ্‌র প্রেরিত নতুন নবী। ৪. তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসা হযরত ঈসা (আ.)। ৫. আল্লাহ্‌ নিজেই বা’ব হয়ে পৃথিবীতে প্রকাশিত হয়েছেন; না’ঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক!

আশ্চর্যজনকভাবে বা’ব-বাহা গুরু-শিষ্য হওয়ার পরও গুরু মির্জা আলী (বা’ব)-এর পাশাপাশি এই ধর্মে মির্জা হুসাইন (বাহা’উল্লাহ্‌) সম্পর্কেও বলা হয় – ১. বাহা’উল্লাহ্‌ই প্রতিশ্রুত ইমাম মাহ্‌দী। ২. তিনি আল্লাহ্‌র নতুন নবী। ৩. তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসা হযরত ঈসা (আ.)। ৪. আল্লাহ্‌ তা’আলা নিজেই বাহা’উল্লাহ্‌ হয়ে পৃথিবীতে প্রকাশিত হয়েছেন; না’ঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক! ৫. হিন্দুধর্মের ভগবান শ্রীকৃষ্ণই বাহা’উল্লাহ্‌ হয়ে পৃথিবীতে আবার এসেছেন; আর বাহা’উল্লাহ্‌ই ঈশ্বরের কল্কি অবতার। ৬. তিনি নতুন বুদ্ধ।

বাহা’ই ধর্মে একই অঙ্গে এত রূপ দেখানোর পর বলা হয়, এর নাম বিশ্বমানবতার ঐক্য, এর নাম সকল ধর্মের প্রতি স্বীকৃতি দান করা! তবে সেই সাথে এও বলা হয় যে বর্তমান বিশ্বে শুধুই বাহা’উল্লাহ্‌কে মান্য করে বাহা’ই ধর্মে চলতে হবে।

প্রকৃত সত্য হলো, বিশ্বের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, মালিক, প্রতিপালক, বিধানদাতা মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা। তাঁর সাথে তুলনীয় কেউ নেই। আল্লাহ্‌র শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম); যাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না।মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা এবং তাঁর শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.) থেকে মুসলিম উম্মাহ্‌ এবং মানবজাতিকে বঞ্চিত করার বিভিন্ন অপচেষ্টার মধ্যে একটির নাম বাহা’ই ধর্ম।

ছবি : বাংলাদেশে প্রচারিত কিছু বাহা’ই বই-পুস্তক; পিছনে ঢাকার ‘জাতীয় বাহা’ই কেন্দ্রে’ বাহা’ইদের বার্ষিক নওরোজ উৎসব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।