আমি আপনার রূহানি সন্তান হওয়ারও যোগ্য নই

ডা. মুহাম্মদ ইউসুফ আলী ।।

নাম তাঁর সালমা। খেয়াঙ উপজাতীয়। বয়স প্রায় সত্তর। এক বিধবা মুসলিম মহিলা। দুই ছেলে, দুই মেয়ে । এক ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, আরেক ছেলে কলেজের অধ্যক্ষ। মেয়ে একজন ডাক্তার । ছেলে মেয়ে সবাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী । স্বামীর জীবদ্দশায় সব সন্তান প্রতিষ্ঠিত।

একদিন তাঁর স্বামী তাঁকে বলেন, ‘আমার একটি কথা শুনবে?’
উত্তরে তিনি বলেন, ‘সারাজীবন তোমার কথা শুনে এসেছি, নিজেকে পবিত্র রেখেছি, এখন কেন শুনবনা?’
‘ইসলামই একমাত্র ধর্ম, চল ইসলাম গ্রহণ করি’ বলে প্রস্তাব করায় স্ত্রী সম্মত হয়ে যান। দুজনে ইসলাম গ্রহণ করে ফাইতং বাজারে মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করেন।
একসময় স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে স্ত্রীকে আবার বলেন, ‘আমার একটি কথা শুনবে?’ তিনি আগের মতো একই উত্তর দেন। তখন স্বামী বলেন, ‘যত কষ্টই হোক পবিত্র ধর্ম ইসলাম ত্যাগ করোনা। সামান্য সুখের জন্য ছেলেমেয়ের কথায় ইসলাম ছেড়ে পরকাল নষ্ট করোনা।’
স্বামীর মৃত্যু হয়। লাশ নেওয়ার জন্যে বড় ছেলে স্থানীয় ইমামকে ফোন করে। স্থানীয় ইমাম তার মার সাথে কথা বলিয়ে দেন। মা স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘ইসলাম অনুযায়ী এখানেই দাফন হবে।’

ছেলেমেয়ে খোঁজ খবর নেয়, কিন্তু সেই বৃদ্ধা মা সন্তানদের বাসায় এ কারণে যান না, যদি ইসলাম হারাতে হয়! শতকষ্ট হলেও তাদের কাছে বলেন না। কারণ তিনি ভাবেন, ‘আমার ইসলাম ও মুসলিম তাদের কাছে ছোট হবে।’

যখন আমার চেম্বারে বসে তাঁর মুখ থেকে শুনছিলাম, আমার অশ্রু ঠেকাতে পারিনি। ইসলাম যেন নিজের সন্তানের কাছে ছোট না হয় সেজন্যে শতকষ্টকে ঢেকে ইসলামকে সুউচ্চে ধারণের প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন এক সত্তর বছরের বৃদ্ধা নওমুসলিম মা! আর আমরা?

চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, বৃদ্ধা নওমুসলিম মা! আমি আপনার রূহানি সন্তান হওয়ারও যোগ্য নই।

২টি মন্তব্য

  1. হৃদয় ছোঁয়া ঈমান!

    2
  2. Author

    মহান আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে এমন ঈমান নসিব করুন!

    1

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।